A photo story by Moiyen Zalal Chowdhury

১. কোন এক ছুটির দিনে আশুলিয়ার পথ দিয়ে যেতে যেতে ডান তাকিয়ে আপনার মনে হবে ইশ! এখানে যদি আমার একটা জায়গা থাকতো। জানালা খুলেই কি সুন্দর প্রকৃতি দেখতে পারতাম। এই দমবন্ধ ঢাকা থেকে মুক্তি মিলতো। আপনার পরিচিত যে বন্ধুরা ইতোমধ্যেই এই স্বর্গ নিশ্চিত করে ফেলেছে তাদের কথা ভেবে আপনার ঈর্ষাও হচ্ছে। দেখুন পরের টি।

As you walk down the path of Ashulia on a holiday, a thought may cross your mind, wish I had a plot here! I could see the beautiful nature by opening the window, and I could get relief from the suffocation of the city. You are also jealous of the friends you know who’ve already confirmed this paradise. See the next one.

দেখুন আগেরটি ২. আপনার কষ্ট এবং আকাংখা আরো একটু বেড়ে যাবে যখন দেখবেন আরে মেট্রোরেলটা তো এখান থেকেই শুরু হয়েছে। কি আরাম করে জ্যাম এড়িয়ে অফিস যাওয়া যাবে। আহ! স্কাইয়ে বসে সেলফি পোস্ট করবেন। ডানপাশে ওয়াটার বডি। জাস্ট ওয়াও। দেখুন পরের টি।

Have another look at the previous one. Your troubles and aspirations will increase a little more when you discover that the metro rail has started from here. Now you could go to the office quite comfortably, avoiding traffic jams. Ah! You could post selfies sitting in the sky. Waterbody on the right. Just wow. See next.

দেখুন আগেরটি ৩. আপনি একটু এদিকেও তাকাবেন। আরে নদীটা কি ভরা। বিকেলে এখানে বেড়াতে আসা যাবে। ছবি তোলা যাবে। এরকম প্রাকৃতিক দৃশ্য থাকবে। দেখুন পরের টি।

See the previous photo. You look a little further. How complete the river is! You can come here in the afternoon and take pictures. There will be such landscapes. Proceed to the next photo.

দেখুন আগেরটি। ৪. আপনার মনে হবে এই দুইজন নদীর দিকে তাকিয়ে কি দেখে? নদীর সীমানা? থাক! এঁদের নিয়ে এত ভাবনার আর কিছু নেই। যারা এভাবে একদম পথের পাশেই বসে থাকে তারা আর কেমন হবে? এরা নিশ্চয়ই সেই ফ্ল্যাটে থাকে না। দেখুন পরেরটি।

Go back to the previous photo. You may think, what is exactly these two people are looking for at the river? The river boundary? Leave it. There is nothing much to worry about these people. What kind of people would they be who sit like this on the road? They surely do not live in those flats. See the next one.

দেখুন আগেরটি। ৫. আপনি বিরুলিয়া ব্রীজে যাবেন। সেখান থেকে ফেইসবুকে দেবার জন্য সুন্দর সুন্দর ছবি তুলতে চাইবেন। দ্বীপ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছগুলো দেখে আপনার মনে হবে ইউটিউবে কোন কোন নাটকে জানি দেখছিলাম! আপনারও মনে হবে যাই যাই। কিন্তু আগের ছবির মত এই বালুবাহী লঞ্চ আপনার বিশেষ মনযোগ নিবেনা। lনদীর মধ্যে এই খাম্বার কোন অর্থ আপনার মধ্যে ঢুকবে না। আপনার মধ্যে ডানদিকে নৌকায় চড়ার এক্সাইটমেন্ট কাজ করবে। দেখুন পরেরটি।

See the previous one. You will go to Birulia Bridge. From there, you will want to take beautiful pictures to post on Facebook. Looking at these trees standing on an island, you will try to figure out which drama you watched on YouTube where you saw this scene! You will also feel like going. But like the previous picture, this sand-carrying launch will not grab your attention. You will find no meaning in this pillar in the river. The excitement of boating on the right side’s boat will play inside you. See the next one.

দেখুন আগেরটি। ৬. আপনি বুঁদ হয়ে আছেন এইসব কন্ডোমিনিয়ামে নিজের জায়গাটুকু নিশ্চিত করার স্বপ্নে। আর নাহয় বিরুলিয়া ব্রীজের পাশে মাটির কাপে চা খাওয়ার বাসনায় দেখুন পরেরটি।

See the previous photo. You are absorbed in the dream of securing your place in this condominium. And look at the next one in the desire to have tea in a clay cup next to the Birulia Bridge.

দেখুন আগেরটি। ৭. আপনি বালির ড্রেজার, নদীটার মধ্যে বাঁদিকের জায়গাটার সাথে কোন সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন না। আপনার মনে হবে না যে বাঁদিকের জায়গাটা ছিলনা। ঐ জায়গাটা নদী দখল করেই হয়েছে। দেখুন পরেরটি।

Revisit the previous photo. You can’t make a connection with the sand dredger and the place on the left in the river. You wouldn’t think that the place on the left wasn’t there. The river has occupied that place earlier. See the next one.

দেখুন আগেরটি। ৮. আপনি হয়ত খেয়াল করেননি, তবে কুকুরটি হয়ত খেয়াল করেছে ক’দিন আগে সেখানেও নদী ছিল। এখন বড় বড় ক্রেন এসে কামড়ে কামড়ে নদী ভড়াট করছে। সেই চিরাচরিত ড্রেজিং এর পাইপ বসেছে। আর যে লোকটি দেখাশোনা করছে সে ক্যামেরাওয়ালা কাউকে দেখেই সন্দেহ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আর বলছে “কে ভাই আপনি? সাংবাদিক নাকি?” দেখুন পরেরটি।

See the previous one. You may not have noticed, but the dog may have noticed that there was a river a few days ago. Now giant cranes are coming and filling up the river, biting the land. That traditional dredging pipe is there. And the man who is supervising is looking at someone with a camera and moving forward with suspicion saying, “Who are you, brother? A Journalist?” See the next one.

 

দেখুন আগেরটি। ৯. কখনো একটু থেমে চিন্তা করে দেখলে ভাবতে পারেন। ঐই হয়। প্রথমে বালি ভরাট হয়। সেটি দিয়ে নদীতে একটা টিলা হয়। আশেপাশে একটা চিমনি থাকে, সেখান থেকে ইট আসে। টাওয়ার থাকে দুইটা সেখানে নেটওয়ার্ক আসে। সেখানে একটা ছাউনি হয়, সেখানে শ্রমিক আসে। সেখানে ব্যাটা পুরুষ নেতা হয়, দালাল হয় আর নতুন নতুন দালান তৈরি করে। সে আবার দালানের মালিক হবার স্বপ্ন দেখে। সেই দালানে সিমেন্টে বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন নতুন আয় করার ধান্ধা আসে। আবার সেখানে নির্লজ্জ কাশফুলও ফোটে। সেখানে লোকেরা বেড়াতে আসে। সেখানে ফুচকার দোকান বসে। চক্র চলতে থাকে। ঢাকা বিস্তৃত হয়। প্রকৃতি পরাস্ত হয়। শেষ।

See the previous photo. If you ever stop and think, you can think. This is what happens. First, it is filled with sand, which loosens the river. There is a chimney nearby, from where the bricks come. There are two towers, and there is the network. There is a camp, and labourers come there. There the guys become male leaders, brokers and build new buildings. They dream of owning the building. In that building comes the idea of ​​making a new income by advertising cement. Shameless catkin flowers still bloom there. People come here to visit. Fuchka stall opens. The cycle continues. Dhaka continues to grow. Nature is defeated. The end.

 

মঈন জালাল চৌধুরী সহকারী অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেট আর্টস। পি এই চ ডি ও পোস্ট ডক করেছেন জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

Print Friendly, PDF & Email
0 Shares

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *